নাচ


একটা ছড়া বলি শোন
দাঁড়াও একটু শোনোনি কখনো
নামতা পড়া জীবনে
এর নেই কোন মানে
নাচ ছিল একদিন তার সাধনা
আজ আর নাচ স্বপ্নেও আসেনা
মনটাকে নাচিয়ে তাধিন তাধিন
হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া একদিন
বেশ লাগবে কিন্তু তখন যদি বৃষ্টি পড়ে
প্রাণ খুলে নেচে ওঠা ভেজা ঘাসের ওপরে
তাধিন তাধিন প্রাণ খুলে বাঁচা
আজ শুধু মন প্রাণ সত্তা উজাড় করে নাচা
বৃষ্টি জল ছলাৎ ছল ছলাৎ ছল পায়ের তলায়
নাচছে মন নাচছে প্রাণ অশান্ত এই পায়ের পাতায়
আবার নাচবে সেই তাপসী আপন তালে ও লয়ে
জমা হবে না পাওয়া সুখ মনের নিলয়ে


১৭ই মে ২০০৬
মুম্বাই

 

 
 

ভবানীপুরের ফুটপাথে


রাত কত হলো? উত্তর মেলেনা
চোখ মেলে দেখে সে, দর্শন মেলেনা
কালো কালো আকাশ মিশমিশে অন্ধকার
চিৎ হয়ে পড়ে আছে, একটু আলো দরকার
ফুট পাথে শুয়ে সারাটা দিন গেল
কত উঁচু নিচু দু’ পেয়ের সাথে দেখা হলো
খেলা হলো , হেলা হলো, মেলা ও শেষ
আহত পথ পাশে ব্যথা ও অশেষ
এই খোলা আকাশটা ও যেন কেমন
এ’ সময়ে কেউ মুখ কালো করে!
একা অনেক যন্ত্রণা নিয়ে আছে সে পড়ে
দিন শেষ হলো, সব পাখি ঘরে গেল
ডানা ধোয়া আলো ফেলে রেখে গেল
তার মুখের ওপর এক চাদর বিছিয়ে
শরীর কাল হলো যন্ত্রণায় বিষিয়ে
রাত কত হলো? উত্তর মেলেনা
তারিখ বদলে গেল সকাল তো এল না!


১৮ই মে, ২০০৬
 

স্বপ্ন


ভয় পাওয়ার দৈনন্দিন অভ্যেসের মাঝে
একটু শানানো সঙিনের মত ঝলসে ওঠার সাধ
শান্তির এত অপচয় কেন
কেন এত শঙ্কা সবার মনে
কেন রোজ নিরীহ মানুষ মরে
মৃত্যুর কারবারীরা লাইনটা চেঞ্জ করেনা কেন
আরে বাবা ব্যবসা করবি তো বলনা, উপায় আছে
মানুষকে মানুষ করে তোলার বাণিজ্য কর
শোনরে পাজীগুলো তাতে সবার ভাল হবে
নিজের বিড়বিড়ানি শুনতে পাচ্ছিলাম
আর নিজেকে নতুন করে খুঁজে নিচ্ছিলাম
মাত্রা ছাড়া দুঃসাহসী হব আমি
জ্বলব সর্বাঙ্গে, যন্ত্রণাকে চুমুকে পান করব
ভেতরের সব তুঁতে নীল জ্বালাকে
চর্ব্য, চোষ্য, লেহ্য, পেয় করে নেব
ব্যথাহীন গলা দিয়ে তাদের নাবিয়ে দেব
তখন সৈর্বব শান্তি সুখ আনবে এক স্থীতিশীলতা
ঘোড় দৌড়ের মাঠগুলোতে লাফিং ক্লাব খুলব
রোজকার সব কাজ হবে, বেনিয়া বন্ধনে নয়
চাই স্বাধীনতা, প্রশান্তি আর শিথিলতা
মাত্রা ছাড়া বেহিসেবী হব আমি
শিশুদের সাথে, ফুলের মাঝে, পাখীদের কাছে
আমি ওদের সাথী হব, বল্গাহীন যাতায়াত হবে আমার
আমি সর্বত্র সবার কাছে গিয়ে জানতে চাইব
ভাল আছ তো? কি কষ্ট তোমার? নেই কিছু?
এই তো চাই শুনতে, বল বল আরেক বার বল
আমি ভিসুভিয়াসের ধোঁয়ার টুঁটি চিপে ধরে
পৃথিবীকে সুস্থ সুকোমল সমীরে স্নান করাব
আমি লাদেনকে বোঝাব কিন্তু বুশ পাজিকে
কিছুতেই নিউক্লিয়ার বোমা বেচতে দেবনা
যাচ্চলে, ডাকলে কেন? ধুর, তুমি না পারও মা
আমি যে এই সুন্দর পৃথিবীকে ধ্বংস হতে দেবনা।


সেপ্টেম্বর ১৬, ২০০৬

মুম্বাই
 

 

 

 

আর কাঁদিওনা


তার কান্না দেখে তোমার খুশি খুশি লাগে
তাই তার কান্না তুমি পেলেনা যে দেখতে
অনেক কষ্ট দিলে তাকে, সে নিল, সে দিলোনা
তোমায় দেখতে তার চোখের কোনায় ফেটে পড়া লোনা
আচ্ছা কাঁদাও কেন, ভাল লাগে?
হাসাতে পারোনা, ভোগ দুঃখবাদে
কান্নার ফিক্সড ডিপোসিট করে
তার সুদটা কষ্টের সেভিংসে ভরে
বিরাট ব্যাপারী, আপাতঃ সুখী তুমি একদিন একা হয়ে যাবে
কাঁদতে চাইবে তুমি, তখন তোমার কান্না কে শুনবে এ’ভবে
কাঁদিওনা আর কাউকে
থামো এবার বাঁচাও নিজেকে
এখন ও আছে সময়
ফিরে এস জীবনের আঙ্গিনায়
হাস, হাসাও আর হাসতে থাক
জীবনকে ভাল বাসতে থাক


জুন ১৮, ২০০৬

 কলকাতা

.................................................................................................
 

যাবে?

 

যাবে? চলে যাবে?

একটা ছড়া বলি শোন

এটা তুমি শোননি কখনও

দাঁড়াও একটু, না হয় পা চালিয়েই যাবে

তুমি যাবে, তো কে তোমায় থামাবে

তুমি তো জেদের বাসা

তুমি এক না পাওয়া ভালবাসা

এমন ছড়া শোনোনি কখনও

নামতা পড়া জীবনের হেঁসেলে

এর নেই কোনও মানে

নৃত্য ছিল একদিন তোমার সাধনা

আজ নৃত্য তোমার স্বপ্নেও আসেনা

কষ্ট পেলে? বা দুঃখ?

না হয় পেলেই

সুখ তুমি চাইতে পার

দুঃখ অত সহজে মেলেনা

চাইবাসার ঘরটা আমাদের খুব সুখের ছিল

দুর, কেবল চাই চাই করেই আমি বাসা হারিয়েছি

যাবার আগে তোমায় বলি

আমি কিন্তু তেমন ডাকাতই আছি

মুহুর্মুহু ডাকাতি, যেওনা এখুনি চলে

মনটাকে নাচিয়ে তা ধিন তা ধিন

হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া একদিন

বেতলার জঙ্গলে

চলনা আবার যাই

আবার যৌবনের ভেলা ভাসাই

শরীরে বাঁক নিয়ে তির্যক হাসি তোমার চোখের কোনে

আমার মনের কালবৈশাখী তোমার মুদ্রাহেলনে শ্লথ

চলনা মনটাকে নাচিয়ে তা ধিন তা ধিন

ঝপাং করে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া একদিন

তোমার করপুটে আমার গরম হাতের তালু

বেশ লাগবে কিন্তু তখন যদি বৃষ্টি পড়ে

পাকা লেবু আর কাজল কালো শীফন

তোমায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে

প্রাণ খুলে নেচে ওঠা, ভেজা ঘাসের ওপরে

তাধিন তাধিন প্রাণ খুলে বাঁচা

শুধু মন প্রাণ স্বত্বা উজাড় করে নাচা

বৃষ্টির জল ছলাৎ ছল, ছলাৎ ছল পায়ের তলায়

নাচছে মন, নাচছে প্রাণ ছন্দময়ীর পায়ের পাতায়

কি হলো? চলে গেলে?

বেশ। উঠোনে আবছা আলতার দাগ রেখে গেলে।

 

 

রজত জয়ন্তী


যৌবনের ময়দানে পা রাখতে না রাখতেই
নজর কেড়ে ছিল তার আজানু লম্বিত বেণি
কি করি আর না করি
সকাল বিকেল মরি
মনকে নিংড়ে নিয়েছিল সেই
ভাল বেসে ছিল প্রথম দরশনেই
উজাড় করে দিয়ে ছিল প্রথম মিলনেই
সবুজ দ্বীপের কালো আখিঁ
মন বলত গাও পাখি
আকাশ কে গায়ে মাখি
ভাবি আর বসে থাকি
প্রাণ বলে হেসে বাঁচি
এই বলে লম্বা বেণি হল সাথী
পঁচিশ বছর পর আজ ও সে সুন্দর
নেই সে লম্বা বেণি আছে তার কদর
এখন আমরা ভাল বন্ধু ও সাথী
এক সাথে গাই নতুন প্রভাতি।


মে ১৬, ২০০৬
 

 

দিঠি


মনের ব্যথা তুমি সখা
গায়ের ব্যথা যাচ্ছেনা
একলা আমি একলা তুমি
কাঁপছে জ্বর কাঁপছে ভুমি
চাতক পাখীর টিটি রব
বৃষ্টি নামুক এখন সব
আঁজলা ভরে আনলে জল
খরার তাতে কিই বা ফল
শুকনো ঘাসে আগুন দিলে
লেলিহান শিখা না নেবালে
এমনি করেই চলবে কি
উষ্ণ প্রতীক্ষা রয়েছে বাকী
তোমার জীবন আমার মাতন
আমার জীবন তোমার মাতন
তোমার কথা আমার কথা
দুঃখের কথা সুখের বাসায়
সুখের কথা দুঃখের আশায়
সুখের আসা আলোর কাছে
চোখের তারায় জীবন বাঁচে
তোমার গান আমার গান
দূরের তারা দীপ্যমান
ঝর্ণা ধারা সাবলীল
তোমার হাসি অনাবিল
তুমি ছাড়া জীবন মাটি
চোখের ভাষা হল দিঠি
হরিণী তুমি ছন্দিলা সিতি
তোমার দিঠিতে আমার ইতি।


সেপ্টেম্বর ২১, ২০০৬

 মুম্বাই