মিকুর উনিশে সেপ্টেম্বর


আজ উনিশে সেপ্টেম্বর। আজ আমাদের বিয়ের ষোল বছর পূর্ণ হলো। ষোড়শী কিশোরী হলো এই বিয়ে! আমাদের বিছানার পাশের লম্বা আয়নাটাতে আমার দ্রুত পালটাতে থাকা অভিব্যক্তিframe by frame  ছবি গুলো আমি দেখতে পেলাম।


আমি শকুন্তলা। কাজলের প্রেম। কাজলের স্ত্রী। ওর ভাল নাম বসুমিত্র গুহ। আমি তুকুর মা। আমার শাশুড়ীর বৌমা। বিয়ের আগে বন্দোপাধ্যায় ছিলাম। আমার বাবা, জেঠু বা দাভাই এমনিতে খুব উদার মানুষ। পদ্মপুকুরে আমাদের তিনতলা বাড়ীতে ষোলটা বিশাল বিশাল ঘর ছিল। বিকেল বেলায় ছাদে দাঁড়িয়ে শহর দেখা ছিল আমাদের স্বাধীনতার চুড়ান্ত প্রকাশ। বাড়ীর চৌহদ্দির মধ্যে আমাদের তিন বোনের ছিল অবাধ স্বাধীনতা। কিন্তু বাইরে কত রকমের নিয়ম মেনে যে চলতে হত সে সব তুকু কে বললে ও হেসে উড়িয়ে দেয়। আমাদের তিন বোনকেই ছোটবেলায় শেখান হয়েছিল যে অব্রাক্ষ্মণে গোত্রান্তরিতা হওয়ার চেয়ে চিরকুমারী থাকা অনেক বেশী সন্মানের। আমরা জানতাম, মেয়ে মানে মা দুর্গা, লক্ষীমন্ত, স্বরস্বতী। কন্যাসন্তান সংসারের বাঁধনি। আমাদের বাড়িতে দুর্গা পুজো আর কালী পুজো বেশ ঘটা করে হত। আমাদের পরিবারে গোঁড়ামী ছিলনা শুধু এই ব্রক্ষ্মসন্তান হওয়ার অহঙ্কারের ঢক্কানিনাদ টুকু ছাড়া। কিন্তু এই সবই ঘরের ভেতরে।


আমি আমাদের বাড়ীতে কাউকে অন্যের জাত পাত নিয়ে অবজ্ঞা বা তাচ্ছিল্য করতে শুনিনি। সবাইকে সন্মানের সাথে গ্রহণ করার শিক্ষা আমরা পেয়েছি ছোট বেলা থেকে। সাধু মামা তার জ্বলন্ত সাক্ষী। তবে বাঁড়ুজ্যে পরিবারের অন্তর্মহলে ভেতর অব্রাক্ষ্মণের কোনও স্থান নেই। আমার বিয়ে কি করে হল তাহলে কায়স্থ পরিবারে? আমার বিয়েটা আমিই করেছিলাম। আমার জোর ছিল কাজল। কাজল আমাকে বিয়ের আগে সাত বছর ধরে আমাকে পুজো করেছে, ক্রমাগত বুঝিয়ে গেছে - ও আমাকে কত ভাল বাসে আর আমি রাণীর মত সেই সেই সুখ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছি। মাঝে সাঝে ও যখন ওর উষ্ণ হাতের তালু দিয়ে আমাকে ছুঁতো বা ওর পুরু গোলাপী ঠোঁট আমাকে পাগল করে দিত তখন মনে হোত যে আমার বোধন হচ্ছে। আমার পুজো করছে আমার সেবক। আমি সেই সুখ আজ ষোল বছর পরেও ভুলতে পারিনি। আমার দিদি সিতি আর ছোট বোন গিতির বিয়ে সৎ ব্রাক্ষ্মণ পরিবারেই হয়েছে।


বাড়িতে জানাজানি হবার পরে যখন সময় এল বাবা জেঠাদের কঠোর বিধানের সামনে দাঁড়ানোর আমি তখন আমি বলতে পেরে ছিলাম আমার পুজ্যপুরুষ জেঠুকে - ‘তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি কাজলের, কাজল আমার আর আমি কাজলকেই বিয়ে করব।‘ তার পরিণতি? আমি সাধু মামার বাড়ি গিয়ে থাকলাম বিয়ের আগের তিন মাস। মা বাবা জেঠু বা দাভাই কারোর সাথে যোগাযোগ নেই। কি অস্বস্তিকর সেই সব দিনগুলি! সাধু মামা ছিল কেবল এক সেতু, এক আশা। সাধু মামা মানে সাধন দাস কে আমাদের বাড়িতে সবাই ভাল বাসত। আমি সাধু মামার কোলে বর হয়েছি। আর কাজলের সাপোর্ট আমার ছায়া সঙ্গী ছিল।


কাজলের এক পিসির বাড়ী থেকে বিয়ে হলো আমার। আমার পৃথা মাসি আর সাধু মামা সব কিছু করেছিল আমার দিক থেকে। আমার বাবা অবশ্য শেষ মুহূর্তে ঠিক কন্যা দানের আগে এসে হাজির হয়ে ছিলেন। বাবা পারেননি থাকতে। মা পেরেছিল। বাবার দু’চোখ দিয়ে জলের ধারায় আমি দেখেছিলাম যে মেয়ের জেদের কাছে তিনি হেরে গিয়েও খুশী। তবে বাবাকে এনে হাজির করানোর কাজটা সাধু মামাই করেছিল। সাধু মামা আমাকে ভীষণ ভালবাসত। আমার মা অনেক দিন পরে এসেছিলেন সম্পর্ক স্থিতু করতে। তখন আমার প্রেগন্যান্সির সাত মাস; তুকুর জন্মের ঠিক আগে। আমার পৃথা মাসি আর সাধু মামা আমাকে খুব মরাল সাপোর্ট দিয়ে ছিল। মজার কথা হলো যে এই পৃথা মাসি বা সাধু মামা কেউই আমার রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় নয়। কিন্তু এরা তার থেকেও আপন। পৃথা মাসি চলে গেছেন আজ প্রায় সাত বছর। সাধু মামা এই তো সেদিন বুকে ব্যথা বুকে ব্যথা বলতে বলতে গাড়ির মধ্যেই চোখ বুজলেন। সাধু মামা চলে গেল। কাজল ড্রাইভ করছিল। আমার সর্বত্র কাজল, কাজল আর কাজল। কাজলের ও সর্বত্র মিকু, মিকু আর মিকু। তাই কি? মাঝে মাঝে কাজল আমাকে কুন্তি বলেও ডাকে তবে সেটা রাগের ডাক, মানে কিছু একটা অন্যায় হয়ত করে থাকব আমি, সেই সময়। তা আমি বেশ ভুল ভাল কাজ করে থাকি আর সেটার জন্যে দায়ী হল বসুমিত্র গুহর প্রশ্রয়। তাই তার শাসন, শিরোধার্য। কাজলের সব ভাল, সব, সব সব। শুধু ও যদি আমার কাছে থাকত। আর এই কাজটা না করত! ঈশ! কাজল কেন এটা করল?


গত মাসে কাজল যেদিন বাড়ি এল সেদিন দুপুরে আমরা একসাথে স্নান করলাম। আমার রোমান্টিক পাগলামীকে কাজল এত সুন্দর করে তোলে! উফফফ! সেদিন তুকু আমার মার কাছে গিয়েছিল আর আমার শাশুড়ীমা গিয়েছিলেন দক্ষিণেশ্বরে তার ছোট বোনের বাড়ী। এই তো দিন পনের আগে হঠাৎ পুণেতে গিয়ে ছিলাম তুকুকে নিয়ে। কাজলই টিকিট পাঠিয়ে দিয়েছিল। এ’বছর উনিশে সেপ্টেম্বর মানে আজ ও থাকবেনা আমার কাছে তাই আগাম সেলিব্রেশান। দুটো দিন খুব মজা করে কেটেছিল। আমি ওর নতুন হন্ডা সিভিক গাড়ীটা ড্রাইভ করলাম আর আমার পাশে বসে কাজল গুন গুন করে গান গাইছিল - ’কত দিন দেখিনি তোমায়’ আর মাঝে মাঝে আমার গালে মুখ রাখছিল আর তুকু পেছনের সিটের নিচে মুখ লুকিয়ে বলছিল ’বাবি আমার চোখ ঢাকা -মেক ইট ফাস্ট’! চোদ্দ বছরের মেয়ে সব বোঝে। আমার মেয়ে তুকু ওরও খুব আদরের। তুকু চোদ্দতে পা দিল। বাপের খুব আহ্লাদী মেয়ে তুকু।


২০০১ এর জুনে আমরা যখন ইউরোপে বেড়াতে গিয়েছিলাম তখন কাজল আমায় বলল যে ও একটা দারুন কাজের অফার পেয়েছে Head of Operation হবার, আমি বলেছিলাম যে তুমি এই চ্যালেঞ্জটা নিয়ে নাও - তুমিই পারবে। তখন ও ছিল চেন্নাইয়ের একটা কোম্পানীতে। কিন্তু পোষ্টিং ছিল কলকাতায়। তার কিছু দিন পর, প্রমোশন পেয়ে চেন্নাই চলে যায় কাজল বছর চারেক আগে। তার পরেই সেই চাকরীটা ছাড়ে। গত তিন বছর হল ও পুণায় আছে। বিখ্যাত সেলফোন সার্ভিস প্রোভাইডার শেঙ্কেল এর CEO বসুমিত্র গুহ - আমার স্বামী। আজ চার বছরের ওপর কাজল বাইরে বাইরে কিন্তু প্রতিমাসে একবার ও বাড়ি আসবেই। দু’দিনের জন্যে হলেও বা আমাদের দেখা হবেই এই পৃথিবীর কোনও এক নিভৃত কোণে। আমাদের বিয়ে আজ ষোল বছরে পা দিল। কাজলের আজ বোর্ড মিটীং আছে সিঙ্গাপুরে। আজ উনিশে সেপ্টেম্বর। আমাদের বিয়ের তারিখ। কাজল কখনও ভোলেনা বিশেষ বিশেষ তারিখ গুলো। ওর সেলিব্রেশানের ষ্টাইলটাই আলাদা। আমি যদি রোমান্টিক বিন্দাস হই তবে বসুমিত্র গুহ হল 'the most efficient event manager'। আমি তালে গোলে হরিবোল -  simply horrible। আমার মনে থাকেনা - তারিখ টারিখ। কাজলের থাকে। কাজলের কাছে আমি খুব প্রয়োজনীয় ও দামী হয়ে ওঠার চেষ্টা করিনি কখনও। কাজল আমাকে প্রায়ই বলত যে ও আমাকে কেন ভালবাসে। আমি যেন, শুনতে পেলাম কি পেলাম না এমন ভাব করতাম কিন্তু কান আমার খাড়া থাকত, একটা কথাও যেন বাদ না পড়ে। আর মন থাকত কাজলের কাছে বাঁধা। এই ষোলটা বছর যে শুধুই সুখের তা কিন্তু নয়। অনেক কষ্ট পেয়েছি আমরা একা একা এবং দুজনে একসাথে। আমার দুঃখের ভার লাঘব হয়ে গেছে আমার ভালবাসার বাঁধন আর তার প্রেমের পাখায়। আমরা দু'জন আলাদা জায়গায় কেন? কারণ কাজল চাকরী চেঞ্জ করে দু তিন বছর অন্তর অন্তর, তাই আমি আমাদের সম্পর্কের পাকা উইকেটটা কলকাতায় পেতে রেখেছি। তা’ছাড়া আমার কাজ সব কলকাতায়। আমার মা কে দেখার ব্যাপার ও আছে। দিদি পারেনা। সে নিজে একটা বড় জয়েন্ট ফ্যামিলির বড় বৌ, তিনটে বাচ্চা আরও কত সাংসারিক প্যাঁচ পয়জার! ছোট বোন তার সংসার আর দুটো বাচ্চা সামলাতেই হিমসিম।

আর মা বাবা আলাদা হবার পর থেকে আমি খুব ফিল করি দুজনের জন্যে। কাজলের সঙ্গ আমাকে মায়ের কষ্ট বুঝতে সাহায্য করে। আমি আজ ও বুঝিনি বাবা কেন ওই স্মল টাইম রেডিও সিঙ্গারের সাথে থাকেন। অনেক জ্বালা আছে আমার মনের মধ্যে মা বাবাকে নিয়ে। আমি জানি। আমি খুব সাধারন মেয়ে নই। পড়াশোনায় খুব ভাল ছিলাম। র‌্যাঙ্ক করতাম লরেটো হাউসে, প্রেসিডেনসি তে, এমনকি সি ইউ এর পল-সায়েন্স এর ফার্ষ্ট ক্লাস থার্ড আমি। আমাকে মডেলিং এর অফার দিয়েছিলেন প্রবাদপ্রতিম ফ্যাশন ফটোগ্রাফার, অনিল কে ডাট। দাভাই থেকে বাবা সবাই দুর দুর করে না করে দিলেন। খেলাধুলা, গান, নাচ, আবৃত্তি, অভিনয় বা ডিবেট যাই করেছি সবই খুব মন দিয়ে করেছি। বাস্কেট বল আর টেবল টেনিস এর মধ্যমনি ছিলাম আমি স্কুলে। কাজলের আমাকে পছন্দ করা বা আমার প্রেমে পড়ার পেছনে এ’গুলো বেশ অনেকটা কাজ করেছে। কাজল আমার প্রেমে পরেছিল আমার নাচ দেখে আর প্রপোস করেছিল আমার গলায় ‘যদি ঝড়ের মেঘের মত আমি ধাই, চঞ্চল আনমন, তবে ক্ষমা কোর হে, তবে ক্ষমা কোর হে, ক্ষমা কোর হে ঈশ্বর ‘ গানটা খালি গলায় লুকিয়ে শুনে।


আজও আমি আমাদের দক্ষিণ কলকাতার এই ক্যাম্পাসে - গ্রীন ভ্যালী উৎসবে -প্রতিবছর ছেলেমেয়েদের নিয়ে নৃত্য নাট্য বা নাটক করাই। আবৃত্তি করলে নিজে বুঝতে পারি যে ভাল লাগছে। বয়স আমার মনের আগুনের কাছে নত হয়েই আছে আজ অনেক বছর ধরে। কাজল আমাকে আদর করার সময় বলে যে কি করে তুমি এখন এত আগুন ধরে রেখেছ মিকু! মিকু - এই নামে কেবল একজনই ডাকে আমাকে। আর কাজলের রোমান্টিক গ্রুভি আওয়াজে ওই আদরের ডাকটা শুনলে আমার শরীরে, মনে তোলপাড় হয়ে যায়। আজও। কাজল কেনা এটা করল? নিজে সক্রিয় ভাবে কাজ করি। আই আর ডি আই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের এর ফ্যাকালটি মেম্বার আমি। ইনসিওরেনস ওয়ার্লডে আমাকে চেনে প্রায় সবাই। আমি একটা ক্যাটারিং ব্যোটীক চালাই। আমার ক্লায়েন্ট হল সব সেলিব্রেটি মহলের বাছা বাছা লোকজনেরা। আমি যদি একটা আইটেম রান্না করি তাহলে আমার কন্ট্রাক্টের বটম লাইন ফিফটি পারসেন্ট বেড়ে যায়। আমি টয়োটা প্র্যাডো ল্যান্ড ক্রুইজার চালাই। মারুতী বা ওই জাতীয় গাড়িগুলোকে আমার খেলনা মনে হয়। কাজল কিন্তু সেই তুলনায় খুবই সুবোধ ছেলে। নিজেকে কাজল একটু বেশীই ভালবাসে। আর আমি এটা চাই কারণ ও একা থাকে। নিজের যত্ন ও নিজে না নিলে কি করে চলবে! যাদবপুরের ইলেক্ট্রনিক্সের গ্র্যাজুয়েট। ব্যাস! কত করে বললাম এম বি এ টা করে নিতে, না ফিলিপস এর চাকরি হয়ে গেছে, ক্যাম্পাস থেকেই রিক্রুটমেন্ট কনফার্মড। তবে কাজলকে কিন্তু দেখতে খুব আকর্ষনীয়। টল, ফেয়ার,হ্যান্ডসাম। মেয়েরা ওর দিকে আড় চোখে তাকালে আমার নিজের বেশ গর্ব বোধ হয়। কারণ এই টল, ফেয়ার,হ্যান্ডসাম সুপুরুষের মালকিন এবং রাণী আমি। কাজল কোনও দিন আমার বিশ্বাসের অবমাননা করেনি। ও এই কাজ করতেই পারেনা। আমার কাজল আমার চোখের কাজল। আমার প্রাণের মানুষ কাজল। কাজল কি করে করল এর কাজ?
আমার বাবা খুব বড়লোক। কলকাতা শহরে বা প্রত্যন্ত প্রদেশে যারা পাকা বাড়িতে থাকেন তাদের উপায় নেই আমার বাবার কোম্পানীর নাম না জেনে। আগে মনোপলিই ছিল। এখন পাম্পসেটের বাজারে কিছু নতুন মুখ এসেছে। বাবা বেশ আছেন তার নতুন জীবন আর ব্যবসা নিয়ে। আমার মাও খুব গুণী মহিলা। চন্দনা ভট্টাচার্যকে চেনেনা কলকাতার শিক্ষামহলে এরকম খুব কম লোকই আছে। মা বরাবরই বিয়ের আগের পদবীটাই লেখেন। মা খুব ভাল গান গাইতেন। অসাধারণ আবৃত্তি করতেন। আর মায়ের পড়ানো? সেটা আমি, আমাদের কলেজের এক তরুণ লেকচারারের মুখে শুনেছিলাম, মায়ের পড়ানো নাকি মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখার মত ছিল। তিনি মায়ের ছাত্র ছিলেন। মা আবার কট্টর রাজনীতিক। পলিটিক্যাল সাইনসের অধ্যাপিকা বলে শুধু নয়, মা’র কথা বার্তা খুব বিশ্লেষণাত্মক আর খুব যুক্তি বাদী মহিলা, মা আমার। আজ মাও একা। বাবা অনেক দিন আগে মাকে ছেড়ে এক সুতনুকার সঙ্গে থাকা শুরু করেন। বাবাকে আমি খুব ভালবাসতাম। এখন অবশ্য বাবার সাথে আমার কোনও যোগাযোগ নেই। মার সাথে বাবার ছাড়াছাড়ি হওয়াটা আমি মন থেকে মেনে নিতে পারিনি। আমার মা এই পঁয়ষট্টি বছর বয়েসে, এখনও পুরুষের কুপদৃষ্টি থেকে বাঁচেননা। বাবা যে কি করলেন না! আরে? এখন আমি মা বাবার কথা ভাবছি? এখন তো আমার ভাবা উচিত কাজলের কথা! নিজের কথা!


চিঠিটা কাজল রেজিস্টার্ড এ ডি করল কেন? ও কি ভেবেছিল আমি এই বিবাহ বার্ষিকীর অলঙ্কারকে অস্বীকার করব? আমার ষোড়শী কিশোরী বিয়ের পা টা পিছলে গেল, তাহলে? আমি ঠিক জানিনা কি করব এখন? তেইশ বছর ধরে তিল তিল করে আমি আমার ভালবাসাকে সাজিয়ে তুলেছি। কিন্তু কেন করল কাজল এই কাজ? আমি কি ওকে সবে দিইনি? আমার মন, আমার শরীর, আমার সোনা গয়না, এমন কি বাবার লুকিয়ে আমাকে দেওয়া, প্রায় এক কোটি টাকা। কাজল তো কখনও আমায় বলেনি বা বুঝতেও দেয়নি যে ওর মনে এতটুকু কষ্ট আছে! তবে এ’ কেমন করে হল! এই তো দিন পনের আগেও আমাকে কত ভাল বাসল সারা রাত ধরে! আমি কেন একবারও বুঝতে পারলাম না যে কাজল আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে! আমার ম্যারেজ য়্যানিভার্সারী’র গিফট এসেছে। একটা এস এম এস - Isha is my lost love. Please don't deny my last anniversary gift. Please sign on the papers. ডিভোর্সের নোটিস পাঠিয়েছে কাজল।


মুম্বাই
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০০৬