লোকটা

 

মধুবন্তী

 

লোকটার সাথে দেখা শহর থেকে দূরে এক পড়ন্ত বিকেলের ধোঁয়াশা মাখা আলোয়
লোকটাকে চেনা শহরের বুকে গাড়ি নিয়ে ছুটতে ছুটতে ট্র্যাফিক সিগন্যাল ভাঙার খেলায়
লোকটা হাজার বছর ধরে ছুটে চলেছে বল্গাহীন-আজ কি সে একটু শ্রান্ত!
লোকটার চারপাশে শুভ্র শীতের খরখরে রিক্ততা, মনের আঙিনায় আজও তরতাজা বসন্ত
লোকটা সারাটা জীবন ডুবে থেকেছে কেজো ব্যস্ততায়, হয়তো বা হারিয়ে যেতে চেয়েছে
লোকটা, কে জানে কিংবা হয়তো এমনি করে হারিয়ে থেকে চেয়েছে খুঁজতে বেঁচে থাকার মানে
লোকটা এক কায়াহীনাকে ভালোবেসে জন্ম দিয়েছে এক অলীক বাস্তবের
লোকটার অন্তঃস্হলে সে প্রেম আজও নিরাশ্রয়, গুমড়ে মরে একটু ছায়ার খোঁজে
লোকটার চোখে ঘুম নেই, অপমানে জ্বলার বারিবর্ষণ নেই-আছে শুধু একরাশ রঙীন স্বপ্ন
লোকটা আজও পিষে যায় জীবনের যাঁতাকলে, আজও পুড়ে অঙ্গার হয় অবহেলার আগুনে
লোকটা তবু হেসে-গেয়ে ‘লড়াকু পুতুল’ বেশে রঙ্গমঞ্চে মন মাতায়
লোকটা ক্ষতবিক্ষত মনের লাভাবর্ষণে ভুতুড়ে রাত্রে চিৎকার করে---একা
লোকটার স্বর হাওয়ায় মিশে বয়ে যায় মাটির অনেক উপরে শহর থেকে কয়েক’শ মাইল দূরে
লোকটা এভাবেই মরতে মরতে বেঁচেছে,বাঁচতে বাঁচতে জিতেছে-কৈশোর থেকে শুরু হওয়া আজকের লড়াই
লোকটার মনে এখনও জ্বলন্ত সূর্য্যের গনগনে আঁচ-লোকটা আজও ভালোবাসে ভালোবাসতে
লোকটা আজও ভালোবাসাকে চায়---ছুটে যেতে চায় আদিম অনুভূতির শেষ প্রান্তে
লোকটার সাথে মন হারিয়েছে নীল মেখলা সাদা বালির দেশে ঝিনুক কুড়োবার বেলায়
লোকটা আঁকতে শিখিয়েছে রামধনু রঙ ছবি, প্রাণে দিয়েছে সৃষ্টির বীজমন্ত্রের সুর
লোকটা আজ ঘুমিয়ে রয়েছে বিষাক্ত নীল ঘন কুয়াশার আঠাজালে-যন্ত্রণাবিদ্ধ চেতনাহীন
লোকটা, জানি তবু ফিরে আসবে জীবনের বদ্ধভূমিতে আরও একবার গাইতে বেঁচে থাকার গান
লোকটার সাথে সওয়ারী হওয়ার প্রতীক্ষায় একাকী আমি চোখ বুজে শুনি বুকের গভীরে ভৈরবী তান...