মার্ক টোয়েন (Mark Twain)

ধারাবাহিক (পর্ব ১-০)

-তিমুর

timursblog@yahoo.com

© সংরক্ষিত

 পর্ব (১-১০)

 পর্ব (১-০)

পর্ব (৩১-৪২ শেষ)

 

পর্ব

আঠারোশো চুয়াত্তর সালের শরতকালে হার্টফোর্ডের নতুন বাড়িটা তৈরী হল চমৎকার একটা ছায়াঘেরা জায়গা তৈরী হয়েছিল বাড়িটা বাড়িটার চেহারা ছিল একেবারেই নতুন ধরনের, বিংশ শতাবন্দীর কোনো সমালোচক বলতে পারেন "স্টিমবোট গথিক" কোয়ারি ফার্মের স্টাডির মতই অনেকটা স্টিমার স্টিমার ভাব ছিল বাড়িটায় কিচেনটা ছিল একেবারে রাস্তার উপরে, সে যুগের কেতা মাফিক পিছনে নয় মার্ক টোয়েনের যুক্তি ছিল রাস্তাটা দেখার চাকর বাকরদের আর পুরো বাড়িটা ঘুরে আসতে হবে না !

অতিথি-অভ্যাগতদের ভীড়ে বাড়িটা সবসময়ে গমগম করত চার্লস ডাডলি ওয়ার্নার, আংকল টমস কেবিনখ্যাত হ্যারিয়েট বিচার স্টো তাঁর স্বামী ডক্টর স্টো, অলিভার টুইচেল এরা সবাই খুব কাছেই থাকতেন বৈঠকখানার ফায়ারপ্লেসের উপরে লেখা ছিল, 'অতিথি, অভ্যাগতরাই ঘরের শোভা- "The ornament of a house is the friends that frequents it" |'

জোসেফ টুইচেলের সাথে মার্ক টোয়েন অনেক দূর পথে হাঁটতে গেছেন একবার তাঁরা এলমিরা থেকে বস্টন এই প্রায় একশো মাইল পথ হেঁটে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন হেঁটে হেঁটে তাঁরা ওয়েস্টফোর্ড পর্যন্ত গিয়ে তারপরে বাকিটা ট্রেনে গেলেন উপায় ছিল না, পায়ে ফোস্কা পড়ে গিয়েছিল বস্টন থেকে ফেরার পথে মার্ক টোয়েনের মনে হলো মিসিসিপি নদী নিয়ে একট আবই করলে বেশ হয় আসলে টুইচেলকে মিসিসিপি নদীর পাইলট থাকার সময়ের গল্প শোনাচ্ছিলেন যখন টুইচেল বললেন একটা বই করে ফেলতে

জানুয়ারী মাসে 'আটলান্টিক' পত্রিকায় প্রথম কিস্তি লিখলেন 'রিভার চ্যাপ্টার্স' সবগুলো স্কেচ এক হয়ে 'লাইফ অন দ্যা মিসিসিপি' বই আকারে প্রকাশ পাবে বইটার প্রথম 'ওল্ড টাইমস' অধ্যায়টাই সাত সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে বই আকারে বের হবে সাত বছর পরে রিভার্স চ্যাপ্টার লেখার ফাঁকে ফাঁকে টম সয়্যারের লেখা চলতে লাগল 'স্কেচেস অভ নিউ অ্যান্ড ওল্ড' বের হলো ১৮৭৫ সালে এক বছর পরে টম সয়্যার খুব ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন তখণ স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লিমেন্স

মার্ক টোয়েন তখন এতোটাই বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন যে অনেক ঠিকানা ছাড়া চিঠি আসত তাঁর নামে-'মার্ক টোয়েন, গড নোজ হোয়্যার,' এরকম ঠিকানায় বিদেশীরা অনেক সময় চিঠি লিখত 'মার্ক টোয়েন, ইউএস ' কিন্তু সেগুলো ঠিকই মার্ক টোয়েনের হার্টফোর্ডে বাসায় পৌঁছে দিতো ডাকপিয়ন

বেশির ভাগ সময় টোয়েন এলমিরার পাহাড়ের উপর কোয়্যারি ফার্মে কাজ করতেন এখানে ছিল গরু-ঘোড়া-আপেলের বাগান সহ বিস্তৃত মাঠ এখন সুজি আর ক্লারা এসেছে সংসারে শীতকালে অবশ্য এত বেশী দাওয়াতে অ্যাটেন্ড করতে হতো যে মার্ক টোয়েনের আর খুব বেশী লেখা হতো না

মাঝেই সুজি আর ক্লারা তাদের বাবাকে একটা ছবি দেখিয়ে হুকুম করত ছবির সাথে খাপ খায় এমন একটা গল্প বানিয়ে দিতে ওদের ঘরের দেয়ালে একটা ছবি ছিল যার নাম 'এমেলিন' এবং ছবিটা হাক ফিনের মধ্যেও চেহারা দেখাবে ইনোসেন্ট অ্যাব্রড বইটা ছাপা হয়েছিল ১৮৬৯ সালে কিন্তু আবার পাঠকরা মার্ক টোয়েনের কাছ থেকে একটা ভ্রমনের বই দাবী করতে লাগল

1878
সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সালে তাই মার্ক টোয়েন ইউরোপ ভ্রমনে বের হলেন অলিভার টুইচেলকেও সাথে নিলেন তিনি পুরো গ্রীস্মকালটা পায়ে হেঁটে ওঁরা জার্মানীর ব্ল্যাক ফরেস্ট আর সুইজারল্যান্ড চষে বেড়াবেন অলিভিয়া দুই সুজি আর ক্লারাকে নিয়ে হাইডেলবার্গের শ্লস হোটেলে উঠেছিলেন বাচ্চাদের জার্মান শেখাতো ওদের জার্মান টিচার শান্তিতে লেখালেখি করার জন্য হোটেলটা থেকে সামান্য দূরে একটা কামরা ভাড়া করলেন টোয়েন

র্ব-২২

এই ইউরোপ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা কাজে ক্লিমেন্স লিখলেন ' ট্র্যাম্প অ্যাব্রড' বইটা 'ইনোসেন্ট অ্যাব্রডের' থেকে অনেক পাতলা মেজাজে লেখা বই এটা টুইচেলকে 'হ্যারি' বানিয়ে দিয়েছেন তিনি বইতে এতো বেশী ভাঁড়ামি এসেছে যে লেখাটায় ভ্রমন কাহিনীর ছাপ অনেকটাই মরে গেছে তবু এটা একটা ক্লাসিক টোয়েন হয়তো এভাবে লিখতেই বেশী পছন্দ করতেন তিনি হিউমারের বাড়াবাড়ি মার্ক টোয়েনের একটা বড় দোষ (বা গুন) রবার্ট লুই স্টিভেনসনের ' ট্র্যাভেলস উইথ ডাংকি' অবশ্য এরকমই লেখা যদিও দু'জনের গন্তব্য ছিল ভিন্ন

সুইজারল্যান্ডের লসানে গিয়ে পরিবারের সাথে মিলিত হলেন ক্লিমেন্স তারপরে সবাই ইতালি ঘুরে আবার জার্মানির মিউনিখে উঠলেন তাঁরা থাকতেন ফ্রাউলাইন ডালভাইনারের 1 নং কার্লস্ট্রাসে, যেখানে ' ট্র্যাম্প অ্যাব্রড' এর পান্ডুলিপি বানাতে ব্যাস্ত ছিলেন টোয়েন বসন্তকালে তাঁরা প্যারিস হয়ে লন্ডনে পৌঁছালেন

১৮৭৯
সালের তেসরা সেপ্টেম্বর তাঁরা নিউ ইয়র্কে পৌঁছালেন প্রায় দেড় বছর বাইরে ছিলেন টোয়েন কাগজে লিখল টোয়েনের বয়স নাকি বেড়ে গেছে হতে পারে সত্যি কথা, কারন আমরা এখন মার্ক টোয়েনের বেশির চুলই তখন পেকে গেছে

দেশে ফিরেই সোজা কোয়্যারি ফার্মে চলে গেলেন ক্লিমেন্স তাড়াতাড়ি প্রকাশকের কাছে পান্ডুলিপি জমা দেবার ইচ্ছে তাঁর কিন্তু যে কারনেই হোক, অনেক সময় লাগল বইটা প্রকাশ পেতে আর তার আগেই বছর দুই আগে লেখা একটা গল্পকে ভিত্তি করে 'প্রিন্স অ্যান্ড দ্যা পপার' উপন্যাসের কাজ শুরু করে দিলেন টোয়েন

আসলে এই গল্পের আইডিয়াটা কিন্তু মৌলিক নয় ! বছর দুই আগে শার্লট ইয়ং এর 'দ্যা প্রিন্স অ্যান্ড দ্যা পেজ' গল্পটা পড়ে এটাকে নাট্য রুপ দেবার চেষ্টা করেছিলেন তিনি শুধু পেজের (পরিচারকের) জায়গায় 'পপার' বা ভিখারী বসিয়ে কিন্তু সেটা সম্পুর্ন করতে পারেন নি তিনি খুব 'আধুনিক' একটা গল্প লিখতে চেয়েছিলেন প্রিন্সের জায়গায় তখনকার প্রিন্স অভ ওয়েলস (রাণী ভিক্টোরিয়ার ছেলে) সপ্তম এডওয়ার্ডকে (
১৮৪১-১৯১০) রূপায়িত করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তৎকালীন যুবরাজকে লন্ডনের বস্তিতে এনে ফেললে ইংরেজ পাঠক চটবে ভেবে যোড়শ শতাব্দীর অষ্টম হেনরির দুর্ভাগা পুত্র এডওয়ার্ড টিউডরকে বা ষষ্ঠ এডওয়ার্ডকে (১৫৩৭-১৫৫৩) নায়ক হিসেবে এনে ফেললেন তিনি উপন্যাসে !

আগেই বলেছি ইংরেজ পাঠকের সেন্টিমেন্টকে যে কারনেই হোক দাম দিতেন মার্ক টোয়েন কিংবা হতে পারে যোড়শ শতাব্দীতে সতেরো বছর বয়সে যক্ষায় ভুগে অকালে মারা যাওয়া কিশোর রাজা এডওয়ার্ডকে, রানী ভিক্টোরিয়ার অপোগন্ড, মাতাল লম্পট পুত্রের থেকে অনেক বেশী রোমান্টিক বলে মনে হয়েছিল মার্ক টোয়েনের

বরাবরের মতো বইটার প্রথম শ্রোতা হচ্ছে সুজি আর সারা ক্লিমেন্স এতো দিনে গল্প বোঝার মতো বড় হয়ে উঠেছে ওরা 'প্রিন্স অ্যান্ড পপার' শেষ হলো যখন, ততদিনে ' ট্র্যাম্প অ্যাব্রড' বাজারে চলে এসেছে 'ট্র্যাম্প অ্যাব্রড' ভালই বিক্রি হলো, পঁচিশ হাজার কপি প্রথম বছরে চলি্লশ হাজার ডলার আনল লেখকের পকেটে

র্ব-২৩

আর 1880 সালে মার্ক টোয়েনের তৃতীয় কন্যা জিন ক্লিমেন্সের জন্ম হল বাচ্চাকে কোয়্যারি ফার্মে নিয়ে আসা হলো খামারটা বিড়ালের স্বর্গ ছিল, মার্ক টোয়েনের মেয়েরা বাবার মতই বিড়াল ভক্ত ছিল অবশ্য বোন্স নামে একটা কুকুরও ছিল খামারে ক্লিমেন্স কুকুরদের খুব একটা পছন্দ করতেন না

1880
সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলো গার্ফিল্ডের পক্ষে প্রচারনা চালালেন মার্ক টোয়েন এবং এই জন্য সাবেক ইউনিয়ন পক্ষের সর্বাধিনায়ক সাবেক প্রেসিডেন্ট (১৮৬৯-১৮৭৭), জেনারেল ইউলিসিস গ্র্যান্ট এলেন হার্টফোর্ড শহরে গ্র্যান্টের জন্য সংবর্ধনা সভায় বক্তৃতা দিলেন টোয়েন গ্র্যান্টের সাথে বন্ধুত্ব জমে উঠল টোয়েনের

এর আগের বছর শিকাগোতে গ্র্যান্টের জন্মদিনেও বক্তৃতা দিয়েছিলেন মার্ক টোয়েন অনেক বছর আগে যুদ্ধের সময় মিসৌরির বনে যদি দু'জনের দেখা হত তাহলে মার্ক টোয়েন লেখালেখির জন্য বেঁচে থাকতেন কিনা সন্দেহ আছে! যুদ্ধের সময় দুজন দুই পক্ষের ছিলেন আর টোয়েন দক্ষিনের লোক, যুদ্ধে তাঁদের পরিবার পরাজিত কনফেডারেট পক্ষকে সমর্থন করেছেন সুতরাং এই বন্ধুত্ব খানিকটা বিস্ময়কর

সে যাই হোক 'দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্যা পপার' বের হতে হতে
১৮৮১ এর শেষ হয়ে এল ছাপল বস্টনের অসগুড লিভি কাহিনীটাকে পছন্দ করেছিলেন খুব এবং দাবী করলেন এটার অঙ্গ -সজ্জায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে সুন্দর রঙীন ছবিসহ, ঝকঝকে কাগজে বাঁধাই হয়ে বেরোল বইটা মার্ক টোয়েনের কোনো বই এত সুন্দরভাবে ছাপা হয় নি বইয়ের কাহিনীটাও তিনি এতদিন ধরে যা লিখে এসেছেন তার বাইরের পটভুমিতে লেখা তিনি বইটাকে, সুজি আর সারা ক্লিমেন্সকে উৎসর্গ করেছেন

বইটা যাকে বলে একদম নিঁখুত রোমান্টিক ধাঁচের নিটোল উপন্যাস প্রথমে যাঁরা পড়েছিলেন তাঁরা ভেবেছেন ভিতরে নিশ্চয় কোনো স্বভাবসুলভ তামাশা করেছেন মার্ক টোয়েন অনেকেই জিগ্যেসই করে ফেলেছিলেন 'হোয়্যারস দ্য জোক?' কিন্তু না, ঠাট্টা করার জন্য বই লেখেননি টোয়েন যদিও প্রচলিত সমাজ সম্বন্ধে ব্যাঙ্গ সুস্পষ্ট টম স্য়্যারের মতই আরেকটা 'পারফেক্ট' বই

সময় খ্যাতি ধনসম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে অনুকুল অবস্থায় ছিলেন মার্ক টোয়েন সুখী পরিবার, কোনো ঋণ নেই, চমৎকার একটা বাড়ি আর খামারের মালিক আর অন্তত ছয়টা বেস্ট সেলার বইয়ের লেখক হ্যানিবালের সেই ভবঘুরে বাল সৌভাগ্যের মধ্য গগনবে অবস্থান করছেন তখন মিসেস ক্লিমেন্সের নিজেও মস্ত সম্পদের মালিক ছিলেন তাঁর বাবা, কয়লা ব্যাবসায়ী জারভিস ল্যাংডন যে এলমিরার সবচেয়ে ধনী লোকদের একজন ছিলেন তা তো আগেই বলেছি

হার্টফোর্ডের বাড়িটা সারাদিন গমগম করত মানুষজনে এতো বেশি লোক আসত যে মার্ক টোয়েন এবকবার বলেছিলেন একটা ঘোড়ায় টানা ট্রাম কিনলে ভাল হয়, তাহলে ঘোড়ার গাড়ির পিছনে কম খরচ হবে! অধিকাংশ দক্ষিনীদের মতই তিনি দরাজদিল-অতিথি পরায়ন মানুষ ছিলেন এবং দুর্ভাগ্য-জনক ভাবে মার্ক টোয়েন ভুলে গেলেন একজন মানুষ মোটামুটি যতটা উন্নতি করতে পারে ততটা তিনি করেছেন, এবং আর বেশী টাকার পিছনে দৌড়ানো এখন বিপজ্জনক

র্ব-২৪

পূবে রুপার খনি ছিল না , কিন্তু টোয়েন অন্যান্য জায়গায় টাকা ঢালতে লাগলেন, শেয়ার বাজার, অন্যদের আবিস্কার এসবে একজন লোক একটা স্টিম জেনারেটরের প্যাটেন্ট নিয়ে এলো তাতে নাকি নব্বই ভাগ কয়লা সাশ্রয় হবে মোটা টাকা ঢাললেন ক্লিমেন্স, এবং নয় ডলারও ফেরত পেলেন না তারপরে এলো এক স্টিম-পুলি আবিস্কারক, তাতেও মেলা টাকা নষ্ট হলো শেষমেষ জনৈক ভদ্রলোক এলেন টেলিফোন নামের একটা যন্ত্রের উন্নতি কল্পে লগি্নর জন্য, নাম তাঁর আলেকজান্ডার গ্রায়াম বেল ততোদিনে মার্ক টোয়েন চালাক (?) হয়ে উঠেছেন, এক পয়সা খাটালেন না তিনি টেলিফোনের পিছনে ! অনেকদিন পরে তিনি লিখেছেন ব্যাপারে,

"I declined. I said I did not want any more to do with wildcat
speculation .... I said I didn't want it at any price. He (Bell) became eager; and insisted I take five hundred dollars' worth. He said he would sell me as much as I wanted for five hundred dollars; offered to let me gather it up in my hands and measure it in a plug-hat; said I could have a whole hatful for five hundred dollars. But I was a burnt child, and resisted all these temptations--resisted them easily; went off with my money, and next day lent five thousand of it to a friend who was going to go bankrupt three days later



টেলিফোনের প্যাটেন্ট কিনলে নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধনীদের একজন হতে পারতেন তিনি

সাধারনত কোনো ব্যার্থতায় খুব একটা ঘাবড়ে যেতেন না টোয়েন অকালে পরোলোকগত, দরিদ্র পিতার সন্তান, এগারো বছর বয়স থেকে কাজ করে অভ্যস্ত দারিদ্রকে কুব কাছের থেকে দেখেছেন জয় করেছেন পশ্চিমে সোনার খনির হদিস পান নি কিন্তু স্রেফ প্রতিভা আর সৃজনশীলতার জোরে বিশাল দুনিয়াজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন, প্রতিকুল প্রেমে জিতে নিয়েছেন ধনীর দুহিতা প্রেয়সীকে একটা প্রজেক্ট ব্যার্থ হলে আরেকটা বই লিখে পুষিয়ে নেবেন পরোয়া কিসের টাকা খরচের? তিনি তো নিজেই বলেছেন যে তিনি পঁচাত্তর বছর বাঁচবেন তাহলে তো আরো প্রায় ত্রিশ বছর আয়ু আছে তাঁর!

নো চিন্তা ডু ফুর্তি

সে যা হোক, একদিন পত্রিকায় 'রিভার চ্যাপ্টার্স,' উল্টে পাল্টে মনে হলো মিসিসিপি নদীতে আরেকবার যেতে পারলে বেশ হতো যেমন চিন্তা তেমনই কর্ম, একুশ বছরে মিসিসিপি নদীর কী কী পরিবর্তন হয়েছে দেখার জন্য সেইন্ট লুই থেকে নিউ অর্লিয়ন্স পর্যন্ত একটা স্টিমার যাত্রার কথা ভাবতে লাগলেন তিনি প্রকাশক অসগুডও সঙ্গে যাবেন ঠিক হলো অসগুড একজন স্টেনোগ্রাফারের ব্যাস্থা করলেন যে সব টুকে রাখবে

সেইন্ট লুইতে গিয়ে ছদ্মনামে স্টিমার 'গোল্ড ডাস্টে' চাপলেন টোয়েন কিন্তু কোনো ফায়দা হলো না স্টিমারের লোকজন ঠিক চিনে ফেলল তাঁকে পাইলট যাবার হাউজে আমন্ত্রণ এল যাত্রার বেশির ভাগ সময় পাইলটের সাথে কথা বলে কাটালেন তিনি

কায়রো শহরে এসে নদীটা অনেক চওড়া হয়ে গেছে, তখন মিসিসিপি পুরো ভরা মাঝ নদীতে যেখানে কোনো কিছুতে ধাক্কা লাগার ভয় নেই সেখানে মার্ক টোয়েনকে হাল ধরতে দিয়ে নিজে বিশ্রাম নিতে পাইলট হুইল ধরে টোয়েনের মনে হলো না যে আসলে এতো গুলো বছর কেটে গেছে বিশেষ করে সকাল বেলার ওয়াচে দাঁড়াতেন টোয়েন

নদীটা অনেক জায়গায় পাল্টে গেছে খরস্রোতা চিরযৌবনা মিসিসিপি নদীর পার ভেঙ্গে, নতুন চর গড়ে উঠে যে সে সবসময়েই ভাঙ্গা-গড়ায় ব্যাস্ত থাকবে তাতে আর আশ্চর্যের কী আছে? আর মানুষও তো এই একুশ বছরে বসে থাকেনি কিন্তু নদী যখন পুরো ভরাট তখন সবে কিছু আসে যায় না পুরনো ওস্তাদ হোরেস বিক্সবিকে লিখলেন টোয়েন-'আর কিছু হবার চেয়ে আমি সারা জীবন মিসিসিপি নদীর পাইলট হতেই পছন্দ করব বেশি '

নিউ অর্লিয়ান্সে গিয়ে বিক্সবির সাথে দেখা হলো বিক্সবি এখন 'সিটি অভ ব্যাটন রুজ' জাহাজের ক্যাপ্টেন এই 'ব্যাটন রুজে' চড়েই ক্লিমেন্স সেইন্ট লুইতে ফিরে এলেন তাঁদের দুজনের মানে গুরু-শিষ্যের প্রথম দেখা হয়েছিল প্রায় পঁচিশ বছর আগে যাত্রার সময় টোয়েন, একজন পাইলটের মতই জাহাজের লগবুকে নোট নিতেন

সেইন্ট লুই ছাড়িয়ে ক্লিমেন্স ছোটবেলার পুরনো শহর হ্যানিবালে কয়েকদিন কাটালেন দারুন মজা পেলেন পুরনো বন্ধুদের ( যারা তখনো হ্যানিবালে ছিল) সাথে দেখা করে তারপরে আবার স্টিমারে করে আরো উজানে সেইন্ট পল শহরে গেলেন

চারপাশের দৃশ্য মুগ্ধ করলেও টোয়েন বুঝলেন স্টিমারের সোনালী দিন শেষ মানুষ আর স্রেফ জাহাজের উপর নির্ভর করে বাঁচতে রাজী নয় আর প্রায় সব জায়গাতেই ট্রেন এসে গেছে

1882
সালের গ্রীস্মকালটা পুরোটাই কোয়্যারি ফার্মে কাটালেন মিসিসিপির উপর লেখা বইটার উপর কাজ করে বইটা বাজারে এল পরের বছর ছাপালেন অসগুড আর বিক্রির দায়িত্বে ছিলেন চার্লস ওয়েবস্টার ওয়েস্টার আবার মার্ক টোয়েনের ভাগ্নী-জামাই তিনি পামেলার মেয়ে অ্যানি মোফেটকে বিয়ে করেছিলেন মার্ক টোয়েন তখন নিজেই নিজের প্রকাশক হবার পায়ঁতারা করছিলেন

র্ব-২৫

'লাইফ অন দ্যা মিসিসিপি' হচ্ছে মার্ক টোয়েনের সেরা বইগুলোর একটা নিঃসন্দেহে এটা তাঁর সেরা নন-ফিকশন কাজ বইটার প্রথম পঁচিশ চ্যাপ্টারের (যেখানে তিনি তাঁর পাইলট জীবনের কথা বলেছেন) মান টোয়েনের এর লেখা যে কোনো বইয়ের থেকে ভাল এর পরের লেখা মানে নদীতে ভ্রমনের অংশটাও ভাল তবে ততটা সুখপাঠ্য নয় বইটা মার্ক টোয়েনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন কাজ বলেই মনে করেন তাঁর সমালোচকরা

মিসিসিপি নদী আক্ষরিক অর্থেই আমেরিকার ক্রসরোড কারন দেশটা পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত হলেও নদীটা গেছে উত্তর-দক্ষিন দিকে সুতরাং এই নদীতেই উভয় অক্ষ মিলিত হয়েছে বলা চলে গৃহযুদ্ধ-পুর্ব মিসিসিপি নদীর যে ছবি তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন তা ঐতিহাসিক বিচারেও অনবদ্য

মাঝে মাঝেই নাটক লেখার বাতিক চাপত টোয়েনের মাথায় কর্নেল সেলার্স (গিল্ডেড এজ) এর চরিত্রটা আবার মঞ্চে নামানো পাঁয়তারা করতে লাগলেন তিনি সাথে নিলেন উইলিয়াম হাওয়েলকে

কিন্তু নাটকটা মোটেই জমল না কারন এই নতুন সেলার্স চরিত্রটা অভিনেতা রেমনডের মতে পাগল ছাড়া কিছু না মার্ক টোয়েন দমে না গিয়ে নিজের খরচে নামালে নাটক কিন্তু দর্শকরা 'খেলো' না একেবারে ফ্লপ হলো পুরো প্রচেষ্টাটা

সেই যাই হোক 1884-1885 সালের শীতকালে জর্জ ডাবি্লউ ক্যাবলের সাথে একটা লেকচার ট্যুরে বের হলেন মার্ক টোয়েন তবে তার আগে ক্যাবল একটা মশকরা করলেন টোয়েনের সাথে

একটা ছাপানো চিঠি মার্ক টোয়েনের প্রায় দেড়শো জন বন্ধুর কাছে পাঠালেন ক্যাবল তাতে তাঁদের পয়লা এপ্রিল, মানে এপ্রিল ফুল্স ডে তে মার্ক টোয়েনের কাছে অটোগ্রাফ চেয়ে চিঠি লিখতে বললেন ১৮৮৪ সালের পহেলা এপ্রিল মার্ক টোয়েন প্রায় দেড়শো অটোগ্রাফ প্রত্যাশী চিঠি পেলেন

চিঠিগুলো পেয়ে বেশ চমকে গেলেন তিনি কারন প্রতিটা চিঠিতেই বেশ আজব কিছু অনুরোধ ছিল একজন 'গজ হিসাবে' অটোগ্রাফ চেয়েছেন, আরেকজন 'ওজনদরে' আরকজন বলেছেন যে অটোগ্রাফটা একটা চেকের সাথে দিলে ভাল হয় (!) আরেকজনের আবদার 'লাইফ অন দ্যা মিসিসিপি' প্রথম কয়েকটা চ্যাপ্টার যেন কপি করে তাতে সই করেন মার্ক টোয়েন চিঠিগুলো পড়া শেষ করার আগেই অবশ্য মার্ক টোয়েন বুঝে গেছেন কেউ ঠাট্টা করছে তাঁর সাথে

যে যা হোক সেই শরতকালে ক্যাবলের সাথে বক্তৃতা অভিযান ভালই চলল কারন দুজনেই জনপ্রিয় লেখক শিকাগো হয়ে কেওকুক, এমন কী হ্যানিবালেও গেলেন তাঁরা মার্ক টোয়েনের একাশি বছর বয়স্ক মা জেইন ক্লিমেন্স এলেন স্যামের বক্তৃতা শুনতে তাঁর মা ছোটবেলায় বলতেন 'স্যামি যদি ফাঁসির দড়িতে না ঝোলে , তাহলে বেঁচে থাকলে একটা কিছু হবে (!?!) ' হার্টফোর্ডে বেড়াতে এলেও হ্যানিবালেই বেশিরভাগ সময় থাকতেন জেইন ক্লিমেন্স আর বড়ভাই ওরাইওন থাকতেন কেওকুকে সুস্থ অবস্থায় মা'কে সেই শেষবার দেখবেন ক্লিমেন্স

ক্রিসমাসের সময় হার্টফোর্ডে গিয়ে একটা সারপ্রাইজ পেলেন টোয়েন লিভি সব বাচ্চাদের নিয়ে 'দ্যা প্রিন্স অ্যান্ড দ্য পপার' এর নাট্যরুপ পরিবেশন করলেন বিকেল বেলায় বাসায় এসে দেখলেন ভীষন রহস্যময় কাজ-কারবার চলছে

তারপরে প্রতিবেশী চার্লস ওয়ার্নারের বাসায় ডাল পড়ল ওখানেই হচ্ছিল নাটকটা সাংঘাতিক অভিভুত হলে টোয়েন এমন কী ছোট্ট জিনও ছিল নাটকে একটা টেবিলে বসে খালি মৃত্যু দন্ড সই করতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল জিন প্রথম দিন দেখলেন তারপর নিজেই মাইলস হেন্ডন চরিত্র নিয়ে নাটকে ঢুকে গেলেন টোয়েন

র্ব-২৬

 

আগেই বলেছি এই সময় মার্ক টোয়েন নিজেই প্রকাশক হবার চেষ্টা করছিলেন ভাগি্ন-জামাই চার্লস ওয়েবস্টার বই বিক্রি ভালই করছিলেন প্রতিষ্ঠানের নাম হলো চার্লস ওয়েবস্টার অ্যান্ড কোম্পানি এই উদীয়মান সংস্থার জন্য মার্ক টোয়েন একটা পান্ডুলিপি তৈরী করছিলেন, বইটার নাম হবে 'দ্যা অ্যাডভেঞ্চার্স অভ হাকলবেরি ফিন!'

আট বছর আগে কোয়্যারি ফার্মে এই বইটা টম সয়্যারের সিকুয়েল হিসেবে লিখতে শুরু করেছিলেন কিন্তু ভাল না লাগায় ফেলে রেখেছিলেন লেখাটা সাত বছর পরে মিসিসিপি ঘুরে এসে মনে হলো যে নদীর পটভূমিতে লেখাটা ভালই চলবে জোর কদমে লিখে শেষ করে ফেললেন বইটা চার্লস ওয়েবস্টার কোম্পানিও প্রকাশনা বিপনন করার জন্য এক পায়ে খাড়া

. ডবি্লউ কেম্বল নামে একজন আর্টিস্টকে ভাড়া করা হলো বইটার অলংকরণের জন্য কাগজ থেকে শুরু করে মলাট সবকিছুই নিঁখুতভাবে করার জন্য তীক্ষ নজর ছিল টোয়েনের ওয়েবস্টারকে লিখলেন অন্তত চলি্লশ হাজার কপির জন্য আগাম অর্ডার যোগাড় করতে

মার্ক টোয়েন অনেকটা ব্যাবসায়িক দৃষ্টিতে ব্যাপারটা দেখছিলেন এবং খুব একটা ভুল হয় নি তাঁর চিন্তা ভাবনা 'সেঞ্চুরি' পত্রিকায় হাক ফিনের কয়েক চ্যাপ্টার ছাপা হয়েছিল, এবং পাঠকরা পুরো বইটা পড়ার জন্য খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেছিল সেঞ্চুরিতে লেখা শেষ হতে না হতেই চলি্লশ হাজারের মত আগাম পাঠক পাওয়া গেল বইটা কেনার জন্য

হাক ফিন বইটা বাজারে প্রচন্ড আলোড়ন তুলল এবং এই প্রথমবারের মত মার্ক টোয়েনের বিতর্কিত হয়ে উঠলেন একশো বিশ বছর পরেও
২০০৭ সালেও ধুমসে তর্ক চলছে

সমস্যা হচ্ছে বইটার কাহিনী বা ভাষা খুব 'সুশীল' নয় যারা টম স্য়্যারের আরেকটা খন্ড আশা করছিলেন তাঁরা একটা প্রচন্ড ধাক্কা খেলেন বইটার খাস আঞ্চলিক ভাষাকে হজম করতেও ভিক্টোরিয়ান পাঠককে বেশ বেগ পেতে হলো (যাঁরা এর অনুবাদ পড়েছেন, তাও সংক্ষিপ্ত অনুবাদ তাঁরা এর পুরো তাৎপর্য বুঝতে পারবেন না) হাক ফিনের ভিতর 'বিটুইন দ্যা লাইনস' যথেষ্ট 'মেসেজ' দেয়া আছে

প্রথমেই টম সয়্যারের সাথে প্রথম পার্থক্য হচ্ছে টম যেকানে স্রেফ 'দুষ্ট' বালক ছিল, হাক ফিন আগাগোড়াই 'বিদ্রোহী' বইয়ের শুরুর দিকে দেখি (বইটা উত্তম পুরুষে লেখা, বর্ণনাকারী হাক) তাকে 'ভদ্রলোক' বানাতে গলদঘর্ম হচ্ছেন হাককে দত্তক নেয়া মিসেস ডগলাস তাকে প্রথমে বিপথগামী করে টম সয়্যার (দুধভাত!) তারপরে তার মদ্যপ পিতা হাককে অপহরণ করে নিয়ে যায় সে বনের ভিতর লুকানো কুটিরে হাক পালায় সেখান থেকে পালিয়ে ওঠে নদীর মাঝখানের জ্যাকসনের দ্বীপে সেখানে দেখা হয় পালিয়ে আসা ক্রীতদাস জিমের সাথে

পলায়ন পর্ব অব্যাহত থাকে, জিম যেতে চায় উত্তরের কোনো প্রদেশে, (ওহাইওতে তখন দাস প্রথা নিষিদ্ধ ছিল, নিগ্রোরা স্বাধীনভাবে বাস করতে পারত) হাক তাকে ধরিয়ে দিতে পারে না কিন্তু ওরা দূর দক্ষিনে ( দাস প্রথার শক্ত ঘাঁটি) ভেসে যেতে থাকে ভেলায় চড়ে মাঝে ওরা বিশিষ্ট অভিজাত কর্নেল গ্র্যাঞ্জারফোর্ডের বাড়িতে গিয়ে ওঠে সাথে জোটে দুই বাটপাড়, সম্রাট আর ডিউক শেষ মেষ সাইরাস ফেল্পসের খামার বাড়িতে গিয়ে কাহিনী শেষ হয়, ফেল্পস আবার টম স্য়্যারের খালু (!) সুতরাং টম সয়্যারকেও হাজির হতে হয় শেষ অংকে

কিন্তু কিছু কৈশোরিক উপাদান বাদ দিলেও হাক ফিন আসলে অনেক গভীর, ব্যাপক মাত্রার উপন্যাস আর্নেস্ট হেমিংওয়ে হাক ফিনকে 'প্রথম মৌলিক আমেরিকান উপন্যাস' বলেছেন এরকম কাহিনী পটভুমি গত কারনেই দুনিয়ার আর কোথাও লেখা সম্ভব নয় ভাষাটাও একেবারে মধ্য-পশ্চিমের গাঁইয়া অ্যাক্সেন্ট

আমেরিকান স্কুল পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে সবচেয়ে বেশীবার নিষিদ্ধ বইগুলোর একটা হচ্ছে হাক ফিন প্রকাশের সাথে সাথেই কনকর্ড, ম্যাসাচুসেটসের নিষিদ্ধ হয়ে যায় বইটা তবে বিতর্কিত হবার মত বই বটে এটা ভিক্টোরিয়ান জমানায় এটা অল্পবয়সীদের সকল কর্তৃত্বের বিরুদ্ধের বিদ্রোহী হবার উস্কানির দেবার কারনে আক্রান্ত হয়েছে

আধুনিক একবিংশ শতাব্দীর মানুষও হোঁচট খাবেন এটা পড়তে, কারন দুইশো বারো বার 'নিগার' শব্দটা এসেছে বইতে এখন (মানে
৭০ এর দশকের পর) 'নিগ্রো' শব্দটাই ভদ্র সমাজে অপাংক্তেয় (বলতে হবে 'আফ্রিকান আমেরিকান') সেখানে 'নিগার' কী ভাবে বলা যায়? টোয়েনকে রেসিস্ট অভিধায় অনেক সমালোচকই মোটা দাগে এঁকে দিয়েছেন মার্ক টোয়েনের ভিতর যে রেসিস্ট অ্যাটিচ্যুড ছিল সেটা জানা কথা সেভাবে যদি বলি 'ইনোসেন্টস অ্যাব্রড' হচ্ছে তাঁর সবচেয়ে রেসিস্ট বই যদিও ব্যাপারটা অধিকাংশ লোকের চোখ এড়িয়ে গেছে

তবে এখানে 'নিগার' জিমকে যথেষ্ট মমত্ব সহানুভুতির সাথে এঁকেছেন তিনি এই জিম হচ্ছে তাঁর খালু জন কোয়্যার্লসের একজন ক্রীতদাস, 'আংকল ড্যানিয়েল' এর ছায়াতে তৈরী ছোটবেলায় মার্ক টোয়েন আর তাঁর মা জেইন গিয়ে প্যাটসি খালার বাড়িতে গিয়ে শরতকাল আর শীতকালটা কাটিয়ে আসতেন শীতের সন্ধ্যায় ক্রীতদাসদের কুটিরগুলোতে ম্যারাথন গল্পবলার প্রতিযোগিতা চলত চ্যাম্পিয়ন গল্প বলিয়ে ছিল বুড়ো ক্রীতদাস আংকল ড্যানিয়েল 'আংকল টম' এর মতোই লোকটা ছিল সৎ, সাহসী অনুগত কুসংস্কার শাদাদের মধ্যেও ছিল, শিক্ষা-বঞ্চিত কালোরা এর বাইরে থাকবে ভাবা কঠিন

রাসেল বেকার বলেছেন
, "The people whom Huck and Jim encounter on the Mississippi are drunkards, murderers, bullies, swindlers, lynches, thieves, liars, frauds, child abusers, numbskulls, hypocrites, windbags and traders in human flesh. All are white. The one man of honor in this phantasmagoria is 'Nigger Jim,' as Twain called him to emphasize the irony of a society in which the only true gentleman was held beneath contempt.

র্ব-২৭

মার্ক টোয়েন এখন একজন সফল প্রকাশক জেনারেল গ্র্যান্ট অর্থকষ্টে আছে শুনে তাঁকে আত্ব জীবনী লিখতে পরামর্শ দিলেন তিনি সেঞ্চুরি পত্রিকায় গৃহযুদ্ধের অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে কয়েকটা প্রবন্ধ লিখেছিলেন গ্র্যান্ট, সেগুলোকে বই আকারে ছাপানোর ব্যাবস্থা করলেন টোয়েন

কেবল চাঁদা নিয়ে বই ছাপানোর ব্যাবস্থায় জেনারেলের খুব আস্থা ছিল না কিন্তু তাঁর টাকার দরকার ছল খুব বেশি কেউ যখন ছাপতে রাজী হলো না তখন মার্ক টোয়েন নিজেই ছাপবেন কথা দিলেন লাভের সত্তর ভাগ পাবেন গ্র্যান্ট আর সমস্ত খরচাপাতি টোয়েনের
প্রচুর বিক্রি না হলে এভাবে বই ছাপা যে অসম্ভব সেটা জেনারেল গ্র্যান্টের মত বাইরের লোকও বুঝতে পেরেছিলেন যাই হোক মার্ক টোয়েন লেগে থাকলেন তারপর চুক্তি হলো
ক্যান্সারে আক্রান্ত জেনারেল গ্র্যান্ট তখন অসুস্থ ছিলেন প্রথমে তিনি হাতে লিখতেন, তারপর একজন স্টেনোগ্রাফারকে ডিক্টেশান দিতেন তারপরে যখন এত অসুস্থ হয়ে পড়লেন যে গলা দিয়ে শব্দ বেরোয় না তখন হাতে লিখে বইটা শেষ করে দিলেন জেনারেল বুঝলেন যে তাঁর সময় শেষ হয়ে এসেছে, বইটা থেকে কত টাকা তাঁর পরিবার পেতে পারে সে ব্যাপারে একটা ধারনা তিনি জানতে চাইলেন

ক্লিমেন্স জানালেন এক লক্ষ কপি ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে, এবং লেখকের রোজগার প্রায় দেড় লাখ ডলার আরো দ্বিগুন সংখ্যক বই বিক্রি হবে তিনি আশা করছেন তেইশে জুলাই ১৮৮৫ সালে জেনারেল গ্র্যান্ট পরলোক গমন করলেন

তিন লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল বইটার এবং মিসেস গ্র্যান্ট দুই লক্ষ ডলারের একটা চেক পেয়েছিলেন, সে যুগের সব চেয়ে বড় সন্মানীর চেক পরে সব মিলিয়ে গ্র্যান্টের উত্তরাধীকারীরা প্রায় সাড়ে চার লাখ ডলার পেয়েছিলেন রয়্যাল্টি হিসেবে

কোয়্যারি ফামের্র সেই গ্রীস্মটা ক্লিমেন্সের জন্য সবচেয়ে সুখকর বলা যায় মার্ক টোয়েনের বয়স তখন পঞ্চাশ মার্ক টোয়েনের মেয়ে সুজি ক্লিমেন্স তার হাতে লেখা ডায়েরিতে বলেছে

'
আমরা খুবই সুখী পরিবার বাড়িতে আছে বাবা, মা, জিন , ক্লারা আর আমি বাবার কথা অনেকবার অনেক লোকে বলেছে কিন্তু তবু অনেক কিছূ বলা হয় নি বাবার চুল ঘন আর
ধূসর, চোখ নীল আর নাক রোমানদের মত বাবা বেশ মেজাজী লোক আর খুব আপন ভোলা আমাদের বাড়িতে এগারোটা বিড়াল আছে '

পিছন ফিরে তাকিয়ে আমরা বলতে পারি খ্যাতি সাফল্যের মধ্যে গগনে অবস্থান করছিলেন তখন মার্ক টোয়েন তার পরিবার পরিপুর্ন, পরিবেশ আদর্শ অঢেল টাকা, লাখ লাখ মানুষের ভালবাসা আছে তাঁর পিছনে যেখানেই যান জ্ঞানী-গুনী-মানী লোকেরা তাঁর সাহচর্য পেয়ে ধন্য হন
৩০ শে নভেম্বর তাঁর জন্মদিনে এলেন . অলিভার ওয়েন্ডেল হোমস (ওই একই নামে মার্কিন সুপ্রিম কোটের্র বিচারপতির বাবা), অ্যান্ড্রু ল্যাং এবং বস্টনের সব বাঘা বাঘা লোকেরা

মার্ক টোয়েনে এক বন্ধুকে লিখেছিলেন 'আমার সাফল্যে আমি নিজেই ভীত বোধ করি কারন আমি যা ধরি তাই সোনা হয়ে যাচ্ছে
'

 

র্ব-২৮

জেনারেল গ্র্যান্টের বইটার সাফল্যের পর মার্ক টোয়েন পুরো বইয়ের ব্যাবসার দিকে যাওয়ার মনস্থ করলেন জেনারেল শেরিডান, জেনারেল ম্যাকলেলান এঁদের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা এবং পোপ ত্রয়োদশ লিওর জীবনী ছাপবেন বলে পরিকল্পনা ফাঁদলেন তিনি সব ক্যাথোলিকই পোপের জীবনী পড়বে এরকম আশা করাটা খুব অ সমীচিন নয়

ম্যাকলেলান আর শেরিডানের বইগুলো এবং পোপের বইটা সথা সময় ছাপা হলো
পোপের জীবনী পরে ছয়টা ভাষায় রুপান্তর হয়েছিল কিন্তু সেসময় তেমন ব্যাবসা সফল হয়নি হতে পারে ক্যাথোলিকেরা ভেবেছিল, এতো পোপ এসেছে দুনিয়াতে যে এজন বিশেষ পোপ সম্বন্ধে জানার প্রয়োজন নেই আর ম্যাকলেলান আর শেরিডানের বই দুটো আংশিকভাবে চলেছে মানুষ হয়তো যুদ্ধের বইতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল এরপরে ওবেস্টার অ্যানহড কোম্পানি ভ্রমন, সাহিত্য নানান বিষয়ে বই ছাপানো ব্যাবস্থা করল কোনোটাই তেমন চলল না 'লাইব্রেরি অভ আমেরিকান লিটারেচার' নামে অনেক খন্ডের একটা সিরিজ প্রকাশ করতে গিয়ে ধার করতে হলো ওদের

এটা সত্যি দুঃখজনক যে মার্ক টোয়েন তাঁর জীবনের সবচেয়ে ফলপ্রসু সময়ে ব্যাবসা-বানিজ্যে সংক্রান্ত ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে সৃজনশীলতার অপব্যায় করবেন
তা বলে একেবারে না লিখে বসে ছিলেন না তিনি, খবরের কাগজে এক আধটা প্রবন্ধ, গল্প লিখেছেন তিনি 'এ কানেক্টিকাট ইয়াংকি ইন কিং আর্থার্স কোর্ট' বইটা এ সময়েই লেখা

যে যাইহোক, বাইরে যতই সমস্যা থাকুক, বাড়িতে সেসবের ছাপ পড়ত না
হার্টফোডের্র বাড়িটা আগের মতই সরগরম ছিল
১৮৮০ যখন শেষ হবে আসে তখন মার্ক টোয়েনের মেয়েরা বড় হয়ে উঠছে, পাড়ার অন্য ছেলেমেয়েদের সাথে তারা জর্জ ওয়ার্নারের বাসায় নাটক করত সেখান চুরাশি জন মানুষের বসবার জায়গা ছিল মার্ক টোয়েন নিজেও এই ঘরোয়া থিয়েটারের জন্য নাটক লিখেছেন

অনেক উল্লেখ করার মতো ঘটনাই এসময়ে ঘটেছে
রবার্ট লুই স্টিভেনসন এসেছিলেন বেড়াতে ট্রেজার আইল্যান্ডের লেখকের সাথে হাক ফিনের স্রষ্টার সাক্ষাৎটা নিশ্চয়ই দারুন হয়েছিল

1888 সালে ইয়েল ইউনিভার্সিটি টোয়েনকে মাস্টার অভ আর্টস অনারারি ডিগ্রি দিল
বারো বছর বয়সে লেখাপড়া ছেড়ে দেয়া টোয়েনের জন্য সেটা নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন

টাকার চিন্তাটা ক্রমেই মাথাচাড়া দিচ্ছিল মার্ক টোয়েনের মাথায়
আরেকটা টাইপ সেটিং মেশিনের উদ্ভাবনের পিছনে মেলা টাকা যাচ্ছিল মাস মাসে তারপরেও বিন পয়সায় লেকচার দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি

১৮৮৯ সালের গ্রীস্মকালে ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে একজন ইংরেজ তরুন পা রাখল মার্ক টোয়েনের এলমিরার বাসায় তাকে আপ্যায়ন করালেন তারপর বিদায় দিলেন

কয়েকমাস পরে লন্ডন থেকে ছাপা 'ওয়ার্ল্ড' পত্রিকার একটা সংখ্যা নিয়ে এলেন জর্জ ওয়ার্নার
সে খানে ইংরেজ তরুনে বিশ্ব ভ্রমন কাহিনী ছাপা হয়েছে এলমিরাতে যে তরুন মার্ক টোয়েন নামে একজন বিখ্যাত লোকের বাসায় গিয়েছিলেন সে কথাও আছে তরুনের নাম ছিল রুডিয়ার্ড কিপলিং

র্ব-২৯

১৮৮৯ সালে 'এ কানেক্টিকাট ইয়াংকি ইন কিং আর্থার্স কোর্ট' বের হলো মার্ক টোয়েন খোলাখুলিই বললেন এ হচ্ছে তাঁর শেষ বই 1884 সালে হাক ফিনের পর পাঁচ বছর কোনো বই বের করেননি তিনি তবে কথা রাখেননি তিনি এর পরেও বই লিখবেন তিনি

'কানেক্টিকাট ইয়াংকি' ও ইংল্যান্ডের পটভুমিতে লেখা বই
তবে 'প্রিন্স অ্যান্ড দ্যা পপারের' মতো ঐতিহাসিক উপন্যাস না বরং টাইম ট্র্যাভেল-ফ্যান্টাসি রাজা আর্থারও তো আর ঐতিহাসিক চরিত্র না ! আর বইটাতে প্রিন্স অ্যান্ড পপারের চেয়ে অনেক কড়া কৌতুককর ভাষায় লেখা

সেই গ্রীস্মে তাঁরা কোয়্যারি ফার্মে না গিয়ে ওন্টেওরাতে বন্ধুর কটেজে উঠলেন
সময়টা চমৎকার কাটল কিন্তু শেষ হলো খারাপভাবে অগাস্টে কেওকুক থেকে ডাক এল, জেইন ক্লিমেন্স অসুস্থ কয়েক সপ্তাহ পর মার্ক টোয়েনের মা অষ্ট আশি বছর বয়সে পরোলোক গমন করলেন তারও কিছূ দিন পরে মার্ক টোয়েনের শ্বাশুড়িও মারা গেলেন

সময়টা মার্ক টোয়েনের জন্য ভাল যাচ্ছিল না
তিনি ভেবেছিলেন 'ইয়াংকি' বইটা থেকে তিনি যথেষ্ট টাকা পাবেন যাতে তিনি বর্তমানের প্রয়োজন কাটিয়ে উঠতে পারবেন টাকা তিনি পেলেন ঠিকই কিন্তু টাইপ-সেটিং মেশিনটার পিছনে এতো টাকা গেল যে কুলিয়ে উঠতে পারা গেল না এই যন্ত্রটা ছাপাখানা টাইপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজাতে পারত

মার্ক টোয়েন যিনি অনেক বছর হাতে ছাপার হরফ কম্পোজ করেছিলেন সাংঘাতিক ভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলেন যন্ত্রটার দিকে
জেমস পেইজ নামে এক উদ্ভাবক প্রায় দশ বছর আগে মেশিনটার মডেল বানিয়েছিলেন কিন্তু যন্ত্রটাকে বাস্তবে কাজে লাগানোর জন্য যে পরিবর্তনগুলো করার প্রয়োজন ছিল সেগুলো করতে টাকা বেরিয়ে যাচ্ছিল মাসে মাসে

১৮৯০ সালের শেষ দিকে মার্ক টোয়েন প্রায় দেউলিয়া হয়ে গেলেন যন্ত্রটার জন্য প্রায় এক লাখ নব্বই হাজার তো চলে গেছিলই এর পিছনে, মোটা টাকা দেনাও জমেছিল তাঁর সুতরাং মেশিনের চিন্তাটা বাদ দিয়ে আবার টাকার চিন্তা করতে হলো তাঁকে প্রচুর পরিমানে প্রবন্ধ লিখতে লাগলেন তিনি হাওয়েলের সাথে আবার ফেলে রাখা একটা নাটক মঞ্চস্থ করে ফেললেন 'দ্যা আমেরিকান ক্লেইম্যান্ট'

১৮৯১ সালের জুন মাসে, হার্টফোডের্র বাড়িটা বেচে দিলেন সতেরো বছর সুখের নীড় ছিল বাড়িটা, পৃথিবীর অনেক জ্ঞানী গুনী এ বাড়িতে পায়ের ধুলো দিয়েছেন এটা ছেড়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে কষ্টকর ব্যাপার ছিল তাঁর পক্ষে মিসেস ক্লিমেন্স শেষ বারের মত বাড়ির ঘর গুলো দেখে নিলেন কোচোয়ান প্যাট্রিক ম্যাকালিয়ার, যে কিনা মার্ক টোয়েনে বিয়ের পর থেকেই এ বাড়ির কোচোয়ান শেষ বারের মতো ক্লিমেন্স দম্পতিকে স্টেশনে নিয়ে এল এলমিরায় আর কখনো ফিরবেন না টোয়েন

প্রতিটা প্রবন্ধ এক হাজার ডলারে কিনে নেবে বলে খবরের কাগজের সাথে চুক্তি হলো
এই দুর্যোগে আমেরিকা না থেকে ইউরোপে থাকার পরিকল্পনা করলেন টোয়েন হাতে ব্যাথা পাচ্ছিলেন তিনি, তাই উষ্ণ প্রস্রবনের জন্য বিখ্যাত এ-লো-বেঁ আর জার্মানীর মারিনবাডে

সেখান থেকে হাইডেলবার্গে গেলেন তাঁরা
রাইন নদীর অববাহিকায় কিছু দিন কাটিয়ে সুইজারল্যান্ডে উশি-লসানে গেলেন তাঁরা কোনো বইয়ের জন্য প্লট খুঁজছিলেন তখন মার্ক টোয়েন কিন্তু এত অলস জীবনে কোনোই সৃষ্টিশীল চিন্তা আসছিলো না

র্ব-৩০

এক বিকেলে ভ্যালেন্স শহরের পনেরো মাইল দূরে নদীতে নৌকায় চড়ে বেড়ানোর সময় চিন্তাটা মাথায় এলো টোয়েনের অন্যমনস্ক, স্বপ্নালু চোখে পূবের পাহাড়গুলো দেখছিলেন তিনি হঠাৎ মনে হলো এর মধ্যে একটা পাহাড় দেখতে ঠিক নেপোলিয়নের মুখের মতো! ব্যাপারটা তিনি ডায়রিতে নোট করে রাখলেন কিন্তু গোটা সফরে লেখার মত তেমন কিছু পেলেন না তিনি

সেই শীতে বার্লিনে কাটালেন তিনি
জার্মান সম্রাট কাইজার দ্বিতীয় ভিলহেল্ম দাওয়াত করলেন ডিনারে রাণী ভিক্টোরিয়ার নাতি কাইজার ভালই ইংরেজি জানতেন, 'লাইফ অন দ্য মিসিসিপি' বইটা পড়ে খুব মজা পেয়েছেন 'এ ট্র্যাম্প অ্যাব্রড' ও ভাল লেগেছে তাঁর আসলে পুরো জার্মানীতেই মার্ক টোয়েন খুব জনপ্রিয় ছিলেন এমন কী হোটেলের পোর্টারেরও মার্ক টোয়েনের বইয়ের সংগ্রহ ছিল একদিন টোয়েনের পরিচয় জানতে পেরে সে তার ছোট্ট ঘরে মার্ক টোয়েনকে টানতে টানতে নিয়ে গেল

তারপরে নাউহাইমে গিয়ে ক্লিমেন্স কিছূটা মাথা ঠান্ডা করে কাজ করতে পারলেন
'দ্যা এক্সট্রা অর্ডিনারি টুইনস' আর 'টম সয়্যার অ্যাব্রড' গল্প ও উপন্যাসে হাত দিলেন প্রথম গল্পটা থেকে 'পাডনহেড উইলসন' বইটা বের হবে দ্বিতীয়টা সেইন্ট নিকোলাস পত্রিকার জন্য ধারাবাহিকভাবে লেখা বেড়াতে এলেন বন্ধু টুইচেল এলেন (এ ট্র্যাম্প অ্যাব্রডের সাথী), একদিন পার্কে বেড়াতে দুজনে রানী ভিক্টোরিয়ার বড় ছেলে সপ্তম এডওয়াডের্র সাথে দেখা হয়ে গেল 'প্রিন্স অ্যান্ড দ্য পপারে' এডওয়ার্ডকে চরিত্র বানান নি বলে হয়তো ভালই করেছিলেন টোয়েন

ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের বাইরে ভিলা ভিভিয়ানি ভাড়া নিলেন তিনি
সেখান থেকে লিখলেন 'টম সয়্যার অ্যাব্রড,' আর 'পাডনহেড উইলসান' তারপরে মনে পড়ল একটা কথা

অনেক বছর আগে যখন তিনি হ্যানিবালে কম্পোজিটরের কাজ করতেন তখন রাস্তা দিয়ে যাবর সময়ে একটা বইয়ের ছেঁড়া পাতা এসে পড়েছিল
মার্ক টোয়েন পাতাটা কুড়িয়ে নিয়ে দেখলেন সেখানে জোয়ান অভ আকের্র একটা ছবি বর্ম পরিহিত জোয়ান ঘোড়ার পিঠে চড়ে ফরাসী সৈন্য দল পরিচালনা করছেন

ছবিটা দেখে মার্ক টোয়েন এত মুগ্ধ হলেন যে তিনি ক্রমে ফ্রান্সের ইতিহাস হয়ে, গোটা পৃথিবীর ইতিহাস পড়ে ফেললেন
এর আগে মার্ক টোয়েনের বই পড়ারই অভ্যাস ছিল না ! (আগেই বলেছি ছয় বছর থেকে এগারো বছর পর্যন্ত স্কুলে গেছেন তিনি, এবং স্কুলে থাকার সময় বানান করতে শিখেছিলেন কেবল, ছাপাখানায় কাজ করার সময় তিনি পড়তে শিখেছেন)


সুতরাং পঞ্চদশ শতা
ব্দীর ফরাসী কৃষক বালিকা জোয়ান (১৪১২-১৪৩১), যিনি দখলদার ইংরেজের হাত থেকে ফরাসী দেশকে মুক্ত করতে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সম্বন্ধে মার্ক টোয়েন লিখতে সবসময়েই আগ্রহী ছিলেন 'দ্যা পার্সোন্যাল রিকালেকশন অভ জোয়ান অভ আর্ক' বইটা উত্তম পুরষে লেখা জোয়ানের কাল্পনিক সচিব সোর দো কন্তের ভাষ্যে 'আমি যদি নিজের নামে লিখি, তাহলে মানুষ হাসবে, ভাববে রসিকতা করছি আসলে এটা অত্যন্ত সিরিয়াস একটা বই আমি তাই এই বইটা ছদ্মনামে লিখব ' এবং সোর দো কন্ত নামেই লিখতে শুরু করলেন টোয়েন

ছয় সপ্তাহে এক লাখ শব্দ লিখলেন
যে কোনো বিচারে অনেক লেখা, আরো বেশি যদি আমরা দেখি যে আসলে এ সময়ে টোয়েনকে ফরাসী ভাষায় লেখা অনেক রেফারেন্স ঘাঁটতে হয়েছিল মিসিসিপি নদীতে পাইলট থাকার সময় ফরাসী আঢ়ার চর্চা করেছিলেন মার্ক টোয়েন নিউ অর্লিয়ান্স তো এক সময় ফরাসীদের ছিল মার্ক টোয়েনের যুগে অনেকই সেখানে ফরাসীতে কথা বলতো

 পর্ব (১-১০)

 পর্ব (১-০)

পর্ব (৩১-৪২ শেষ)